বাংলাদেশেএকটি লুঙ্গির দাম নির্ভর করে ফাইবার,সুতা,রং,সুতাপ্রসেসিংএবং বুনন কৌশলের মাধ্যমে।

সুতা,রং,সুতাপ্রসেসিংএবং বুনন কৌশলের মাধ্যমে।

বাংলাদেশের লুঙ্গির সাথে জড়িয়ে আছে বাঙ্গালীর আবেগ,অনুভূতি এবং ভালোবাসা।বাঙালি পুরুষরা লুঙ্গি পছন্দ করে না এমন মানুষ খুজে পাওয়া অনেক কম।

বাংলাদেশে একটি লুঙ্গির দাম নির্ভর করে ফাইবার,সুতা,রং,সুতা প্রসেসিং এবং বুননকৌশলের মাধ্যমে। তাই জন্ম থেকেই আমরা বিভিন্ন ধরন বা ফ্যাশানের পোশাক পরিধান করি।কিন্তু আমরা কয়জন জানি একটি পোশাকের কাপড় কিভাবে তৈরি হয় বা এর কাঁচামাল কি?

যে কোন কাপড় তৈরির প্রধান কাঁচামাল ফাইবার বা আঁশ।এখন প্রশ্ন আসতে পারে ফাইবার বা আঁশ কি?

ফাইবা

ফাইবার মূলত দুই প্রকার ১. প্রাকৃতিক ফাইবার বা ২.কৃএিম ফাইবার 

বাংলাদেশে একটি ভালো দেশীয় তাঁতের লুঙ্গির দাম নির্ভর করে সুতা,সুতার রং এবং বুননকৌশলের মাধ্যমে। 

কাপড় তৈরির জন্য সুতা প্রয়োজন।সুতার সাথে আমরা সকলেই পরিচিতি আর এই সুতা তৈরির উপাদান হিসেবে প্রাকৃতিক বা কৃএিম ফাইবার ব্যবহার করা হয়।

সুতার ভিন্নতা নির্ভর করে এই ফাইবারের উপর।বাজারে বিভিন্ন ধরনের সুতা পাওয়া যায় যা ফাইবারের বিভিন্ন মিশ্রণে তৈরি হয়।

ফাইবারের কতগুলো বিশেষ গুণাবলি থাকা প্রয়োজন যেমন-পাকানোর জন্য ন্যূনতম দৈর্ঘ্য, শক্তি, কমনীয়তা,নমনীয়তা, সমতা,আদ্রতা ধারণ ক্ষমতা ইত্যাদি।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে সুতা থেকে কাপড় তৈরি করলে কাপড়ের ভিন্নতা আসে কেন?কারন আমি আগেই বলেছি সুতার ভিন্নতা আসে ফাইবারের ধরন থেকে আর কাপড়ের ভিন্নতা আসে সুতা এবং বুননকৌশল থেকে।

সব কাপড়ের বুননকৌশল একই রকম না নতুন নতুন যন্ত্র আবিষ্কারের ফলে বুননকৌশলের যেমন পরিবর্তন এসেছে তেমনি কাপড়ের ধরন পরিবর্তন হয়েছে।

প্রাকৃতিক ফাইবার

প্রকৃতিতে জন্মে এমন সব গাছ, ফুল প্রাণী খনি ইত্যাদি থেকে আহরণ করা হয় বলে এসবকে প্রাকৃতিক ফাইবার বলা হয়। প্রাকৃতিক ফাইবার এর মধ্যেও শ্রেণীভেদ আছে। যেমন উদ্ভিজ্জ, প্রাণীজ ও খনিজ।

কৃত্রিম ফাইবার

বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক পদার্থের সংমিশ্রনে বিক্রিয়া ঘটিয়ে বা বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক পদার্থের পলিমারাইজেশন ঘটিয়ে যে কৃত্রিম আঁশ তথা ফিলামেন্ট তৈরি করা হয় তাকে রাসায়নিক ফাইবার বলে ।কয়েকটি কৃত্রিম ফাইবারের নাম নাইলন, পলিষ্টার, রেয়ন, ভিসকস , আক্রাইলিক ফাইবার ইত্যাদি।

এই ফাইবার থেকে তৈরি হয় ইয়ার্ন এবং ইয়ার্ন থেকে তৈরি হয় সুতা তারপর তাঁতিরা বাজার থেকে সুতা কিনে এনে সুতাকে প্রসেসিং এর কাজে লাগানো হয়।

প্রসেস প্রক্রিয়া

বাংলাদেশে একটি লুঙ্গির দাম নির্ভর করে ফাইবার,সুতা,রং,সুতা প্রসেসিং এবং বুননকৌশলের মাধ্যমে।

একটি লুঙ্গি তৈরি করতে অনেক গুলো প্রক্রিয়ার আমাদের অতিক্রম করতে হয়।তার মধ্যে আমাদের প্রথম কাঁচামাল হলো সুতা আর এই সুতা তৈরি হয় প্রাকৃতিক বা কৃএিম ফাইবার থেকে।

এখন আমি যদি চিন্তা করি লুঙ্গি তৈরি করতে একজন তাঁতি বা কারিগরের প্রথম কাজ কি।

তাহলে আমি বলবো বাজার থেকে গ্রে সুতা কিনে এনে সেই সুতাকে প্রসেস মিলে পাঠানো।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে সুতা প্রসেস কি?

প্রতিটি তাঁত অঞ্চলে এ রকম প্রসেস মিল গড়ে উঠেছে তাঁত শিল্পের পাশাপাশি এ রকম মিলে প্রায় চল্লিশ বা পঞ্চাশ জন করে শ্রমিক কাজ করে।

তাঁতিরা বাজার থেকে প্রথমে সুতা ক্রয় করে,তারপর গ্রে সুতা প্রথমে নিয়ে আসে প্রসেস মিলে।

তাঁতশিল্পের প্রধান উপকরণ সুতা এই সুতা প্রথমমত প্রসেস মিলে পাকানোর মাধ্যমে নরম করা হয়।

সেখানে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল এবং পানি মিশিয়ে একটি বড় ডামের মধ্যে জ্বালানি দিয়ে ১২ ঘন্টা বয়লার করা হয়।

তারপর কারিগররা সেই বয়লার করা সুতা পরিস্কার পানি দিয়ে লাঠির মাধ্যমে চিপাতে হয়।

এখন আরও একটি প্রশ্ন আসতে পারে এতে সুতার কি পরিবর্তন হলো?

বাজারের গ্রে সুতাকে প্রসেসিং এর মাধ্যমে সুতাকে নরম এবং সুতার ভিতরে থাকা আবর্জনা রিমোভ করে এই সুতাকে বিভিন্ন রং করার উপযোগী করা হলো।

সুতা ডাইং

সুতা প্রসেসিং এর পরে আসে সুতা রং করার প্রক্রিয়া। তাঁতের লুঙ্গি বুননের আগেই মূলত সুতাকে রং করতে হয়।

আজকের মূল আলোচনা সুতা প্রসেসিং এর পরে সুতাকে ডাইং বা রং করতে হয়।

আমরা একটি শাড়ি বা লুঙ্গি যায় তৈরি করি না কেন তার আগে আমাদের একটি ডিজাইন করতে হবে সেই ডিজাইনে বিভিন্ন ধরনের কালার থাকে। 

তাই এই কালার গুলো করার জন্য তাঁতিরা বাড়িতে নিজে নিজে করে আমার ডাইং কারখানার মাধ্যমেও করায়। 

বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক কালার মিশ্রিত করে সুতা রং করতে হয়। আমরা যখন বাজার থেকে কোন কাপড় কিনতে যায় তখন সেই কাপড়ের গুনগতমান আমরা যাচাই করি তাই একটি কাপড়ের গুনগতমান অনেকটা নির্ভর করে সুতার কোয়ালিটি এবং রং করার উপর,সুতাতে যদি ভালো কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় তাহলে সেই সুতা থেকে রং উঠবেনা এবং রং হবে অনেক উজ্জ্বলতা এসব থেকে বিবেচনা করে আমরা একটি কাপড়ের গুনগতমান সম্পর্কে বিবেচনা করতে পারি।

বুননকৌশল 

সুতা রং করার পরবর্তী ধাপ হলো সেই সুতাকে কালার অনুযায়ী ববিনে জড়ানো,তারপর ববিন থেকে ডিজাইন অনুযায়ী ডামের মধ্যে ডিজাইন করা।

ববিন থেকে ডামে সুতার কালার অনুযায়ী ডিজাইন করার পরে সেই ডামের সুতাকে বুননের জন্য মেশিনে বসানো হয়।তাই লুঙ্গি বুননের পরে প্রশ্ন আসতে পারে কোন  লুঙ্গি অনেক মোটা আবার কোনটি অনেক পাতলা কেন?

১ সেন্টিমিটারে ৮৪ বা ১২০ টা সুতা বুনতে হলে কতটা চিকন সুতা দিতে হয়  চিন্তা করুন একবার। তখনই লুঙ্গি হবে পাতলা, আরামদায়ক এবং ওজনে কম।

আর ১ সেন্টিমিটারে ৪০ বা ৬০ টা সুতা দিয়ে বুনতে কতটা মোটা সুতা দিতে যা কিনা কাস্টমার হাতে নিলেই বুঝবে তার ওজন অনেক বেশি।

সুতার কাউন্ট। 

আসলে এই মোটা বা পাতলা হওয়া নির্ভর করে সুতার কাউন্টের উপর। 

কারন সুতার কাউন্ট যতবেশি হবে সেই লুঙ্গি ততোটা পাতলা হবে আবার কাউন্ট যত কম হবে, সেই কাপড় বেশি মোটা হবে। 

ধরি একটি কাপড়ের ৭০/৭২ কাউন্ট বলতে টানায় ৭২ কাউন্ট এবং পোড়েনে বা মাকুতে বা ববিনে যে সুতার কাউন্ট বুঝানো হয়েছে তা ৭০ কাউন্ট এভাবে কাপড়ের  কাউন্ট পরিমাপ করা হয়। একজন কারিগর তার ইচ্ছামত কাউন্ট ব্যবহার করে থাকে।

তাঁতিদের তৈরি করা  লুঙ্গির গুনগতমান নির্ভর করে সুতা, রং ও কারিগরের উপর। যদি প্রস্তুত করার সকল ধরনের উপাদান ভালো না থাকে তবে ভালো তাঁতের লুঙ্গি তৈরি করা সম্ভব নয়।  ভালো লুঙ্গি তৈরি করতে সবার আগে উপাদান ভালো হতে হয়। 

তাঁতের একটি লুঙ্গি ল তৈরির সময় সুতার কাউন্ট এবং রং এর উপর নির্ভর করে দাম নির্ধারন করা হয়।

লুঙ্গি প্রসেস

লুঙ্গি বুনন কাজ শেষ হলেই,এখানে শেষ না।তার পরবর্তী কাজ হলো লুঙ্গিকে প্রসেসিং করে বিক্রয় যোগ্য করে তুলা।

তাই আমি আজ লুঙ্গি বুননের পরে,যে প্রসেস করে প্যাকেজিং করা হয় তা নিয়ে একটু আলোচনা করবো।একটি লুঙ্গির প্রসেস মূলত চারটি নিয়মে করা যায়,সেটি আবার নির্ভর করে সুতা এবং বুননকৌশলের উপর।

হিট প্রসেসিং।

সাধারন প্রসেস।

মাশ্চরাইজড প্রসেস।

ওয়াশ প্রসেস। 

সাধারণত এই চারটি নিয়মে লুঙ্গি বুননের পরে লুঙ্গি প্রসেস করা হয়ে থাকে।এবং প্রতিটি প্রসেসের কারনে লুঙ্গির কাপড় ভি

ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে কেন আস্থা তৈরি হওয়া উচিত?

ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে কেন আস্থা তৈরি হওয়া উচিত?

ক্রেতা এবং বিক্রেতার সহানুভূতিশীল সম্পর্ক এবং আস্থা কেন তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ?কারন ই-কমার্স কেনাকাটায় আস্হা অর্জন হওয়ার একমাত্র ভরসা ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী বিক্রেতাকে সকল সমস্যার সমাধান করা।

আপনি কি ই-কমার্সে কেনাকাটি করতে চিন্তিত?জি আমি চিন্তিত কারন ই-কমার্সে দাম বেশি,পণ্য দেখায় একটি দেয় আরেকটি,প্রতারণা বেশি এবং পণ্যর গুনগতমান ভালো না।

বিক্রেতার মধ্যে ভালোমন্দ।

আমরা জন্ম থেকেই দেখে আসছি প্রতিটি জাতি,শ্রেনী এবং সকল গোষ্ঠীর মধ্যে ভালো এবং মন্দ কিছু আছে।তাই এক তরফা ভাবে কোন শ্রেনীকে ভালোও বলা যাবে না এমন কি খারাপও বলা যাবে না।

তাই ই-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসায় আমরা উদ্যোক্তারাও মাএ একটি শিশুর মত বড় হচ্ছি ঠিক ক্রেতারাও কেনা কাটা করতে করতে অভ্যস্ত হচ্ছে।

আমি ক্রেতা আমি একটি সাইট থেকে আমার চাহিদা মত পণ্য কিনবো।তাই আমাকেই এমন একটি বিক্রেতাকে খুজে বের করতে হবে আমার চাহিদা অনুযায়ী সমস্যার সমাধান সহ বিশ্বাস করতে পারি।

সঠিক বিক্রেতাকে খুজে বের করাঃ

এখন প্রশ্ন আসতে পারে ভাই কাকে বিশ্বাস করবো?

দেখেন একজন ক্রেতা যেমন ভালো বিক্রেতাকে সন্ধান করছেন ঠিক তেমনি একজন বিক্রেতা তার সর্বোচ্চ চাহিদা পূরনের জন্য ক্রেতার সন্ধান করছে।

তাই ভালো খারাপের প্রার্থক্য আমাদের মধ্যে।একটি উদাহরন দিয়ে বলি একজন আপু একটি পেজ থেকে একটি শাড়ি কিনেছেন যখন তার পার্সেলটি হাতে আসার পর দেখে সম্পন্ন প্রতারণা।আমাকে জানালেন আমি দেখলাম তাদের পেজের সাইটে কোন ঠিকানা,লোকেশন এবং কোন ওয়েবসাইট পযন্ত নেই।ইন্ডিয়ান এবং পাকিস্তানি কাতান শাড়ির ছবি দিয়ে পানির দামে বিক্রি করছে।

সে যদি আমার পেমেন্ট গেট ওয়েতে টাকা নিয়ে পণ্য নাও দেয় তারপও তাকে খুঁজে পূওয়া সম্ভব না।এখন আপনি বলেন ভুলটা ই-কমার্স ব্যবসার না একজন ক্রেতা হিসাবে আমার।

কাস্টমারের নিরাপত্তাঃ

আমরা যে কোন একটি সিদ্ধান্ত বা কোন পণ্য কেনার আগে চিন্তা করা উচিত আমার এই সার্ভিসের প্রতি কোন নিরাপত্তা আছে কি?এখন প্রশ্ন আসতে পারে ই-কমার্সে কেনাকাটার জন্য বিশ্বাসের জায়গা কিভাবে অনুসন্ধান করবো?আমরা যদি অনলাইনের কোন সাইট থেকে পণ্য কিনতে চাই সেই সাইট আমার কাছে কতোটা বিশ্বাসযোগ্য ক্রেতা হিসাবে চোখ কান খোলা রাখা আমার দায়িত্ব।

আস্থার জায়গা অনুসন্ধানঃ

ই-কমার্স হলো আমাদের দেশের জন্য নতুন একটি ট্রেন্ড,আমি আগেই বলেছি এখানে দুই ধরনের মানুষ আছে সাধু এবং অসাধু ই-কমার্স ব্যবসায়ি।তাই আমাদেরকেই খুজে বের করতে হবে আমার বিশ্বাসের বিক্রেতাকে।ফেইসবুকের কোন প্রফাইল বা পেজ থেকে পণ্য কেনার আগে আমরা কিছু জিনিস লক্ষ্য করতে পারি যেমন,পার্সোনাল প্রফাইল অর্জিনাল না ফেইক বা সেই প্রফাইলে প্রবেশ করলে বুঝা যাবে ই-কমার্স ব্যবসায় সে কতোটুকু প্রফেশনাল। কোন পেজ থেকে পণ্য কিনলে লক্ষ রাকতে হবে তার পেইজে নিদিষ্ট ঠিকানা,ফোন নাম্বার,ওয়েভসাইট বা নির্দিষ্ট কোন আউটলেট আছে কিনা যা আমার চাহিদা বা সমস্যার সমাধান তারা করতে পারবে কি না।

আরিফা মডেলের কারনে ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের মধ্যে সহানুভূতিশীল সম্পর্ক হয়েছে তা থেকে কোন ক্রেতা বা বিক্রেতা কেউ ঠকার সম্ভাবনা নেই। 

সাইফুল ইসলাম। 

স্বত্বাধিকারীঃ বাকল

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *